চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করেও মায়ের ঠাঁই ভাড়া বাসায়, মিলল পচনধরা মরদেহ

World অর্থ বাণিজ্য আন্তর্জাতিক খেলা জাতীয় টেক বাংলাদেশ বিনোদন স্বাস্থ্য

বরিশালের বাবুগঞ্জে ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার দুপুরে উপজেলার নতুন হাট এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এক থেকে দুইদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে মানুষ করতে প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে কাজ করেন তাহমিনা। উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। তার বড় ছেলে সুমনের ঢাকার উত্তরায় ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে।

মৃত তাহমিনা বেগম উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী।

বাড়ির মালিক আব্দুর বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনাকে তাঁর বড় ভাই রমিজ ওই বাসায় ভাড়া রাখেন। এরপর থেকে তিনি একাই সেখানে থাকতেন। মাঝেমধ্যে অসুস্থ শরীর নিয়েই বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন। তবে গত দুইদিন তাঁকে বাইরে দেখা যায়নি।

তিনি জানান, শনিবার বিকেল থেকেই বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। প্রথমে পাশের কোনো কক্ষে ইঁদুর মারা যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি। রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তাহমিনার কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তাঁর বড় ভাইকে খবর দেওয়া হয়। স্বজনেরা এসে কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে তাহমিনার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

স্বামীর ঘর বিক্রি করে প্রবাসে স্থানীয় ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী কদম আলী হাওলাদারকে হারান তাহমিনা। তখন তার চার সন্তান ছিল। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। সেখানে তাঁর ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তার বিয়ে হয়েছে ভালো পরিবারে।

প্রতিবেশী শাহানা বেগম জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা ওই বাসায় আসেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তারা শুনেছেন, তিনি কয়েকবার স্ট্রোক করেছিলেন। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদ্ধসঢ়;‌রোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করতেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।

প্রতিবেশী আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, শনিবার রাতে তাহমিনার ছেলে মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ছোট মামার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও বোনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাননি। রোববার সকালে বড় ভাই ওই বাসায় এসে বোনের মরদেহ দেখতে পান।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।

এদিকে তাহমিনার ছেলে-মেয়েরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন স্বজনদের কেউ কেউ।

What do you feel about this post?

0%
like

Like

0%
love

Love

0%
happy

Happy

0%
haha

Haha

0%
sad

Sad

0%
angry

Angry

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *