রাজনৈতিক পরিচয় থেকে মন্ত্রী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা প্রশাসনিক প্রভাব দেখি বিভিন্ন দপ্তরের নারীদের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা ও অর্থ আত্মসাতের নেশায় মেতে উঠেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মনিরুজ্জামান ছোটন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মনিরুজ্জামান ছোটন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত ধসে পড়া থেকে তুলে আনতে নিয়মিত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরকারি বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এই অভিযানের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এমন আশ্বাসে মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিচ্ছেন গডফাদার ছোটন।
এমন কি ডাক্তার-নার্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের নারী কর্মকর্তাদের কাছে ছোটন হয়ে উঠেছেন আতঙ্কের নাম। তার চোখে পড়লেই মেটাতে হবে শারিরিক চাহিদা, অন্যথায় বদলী। এমন কি চাকরিচূতির হুমকিও দিয়ে থাকেন ছোটন। ছোটনের চাহিদা না মেটাতে পারলে ঐ হাসপাতালের মালিকদেরও মুখোমুখি হতে হয় অভিযানের।
সাম্প্রতিক রাজধানীর একটি বেসরকারি মেডিকেলের রুগী দেখতে গিয়ে একজন নার্স পড়ে যায় ছোটনের চোঁখে। প্রথমে ফোন নম্বর নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে হাসপাতালের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পৌছে দেয় তার শারিরিক চাহিদা মেটানোর বার্তা। হাসপাতালের ওই কর্মকর্তা নার্সকে ছোটনের প্রস্তাবের কথা জানালে ওই নারী চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এমনসব অভিযোগ নিয়মিত আসছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মনিরুজ্জামান ছোটনের বিরুদ্ধে।
টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযানের হুমকির মাধ্যমে তার লাগামহীন দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা রয়ে গেছে পর্দার আড়ালেই।
মন্ত্রনালয়ের কোন কোন কর্মকর্তা বলছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিশ্বস্থ হিসেবে এসব দুর্নীতির ভাগ যায় মন্ত্রীর পকেটেও। যার কারণে কোনভাবেই থামছেই না তার দৌরাত্ম্য।
যার কারণে স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম গডফাদার মনিরুজ্জামান ছোটনকে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে তারা দাবিও করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
গোপন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছোটনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ থাকলেও মন্ত্রীর অনৈতিক সকল চাহিদা মেটাতে পারে বলেই ছোটন ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক নিয়োগে মন্ত্রীর পক্ষ হয়ে টাকার হিসাব মেলাতে গুলাশানের একটি ররস্তুরায় কয়েক দফা বৈঠক করার খবরও এসেছে। যেখানে শত কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছে ছোটন।
এসব রহস্যজনক কারণে ছোটনের লুটপাটের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থমূল্যের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করছে ছোটন।
স্থাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ছোটনের বিরুদ্ধে কথা বললেই মন্ত্রী আমাদের উপর নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করেন, যার কারণে সবাই চুপ হয়ে আছেন। ছোটন তো এখন স্বাস্থ্যের অঘোষিত মাফিয়া, গডফাদার।
পরবর্তি পর্বে আসছে অবৈধ সম্পদের বিবরণ…..
What do you feel about this post?
Like
Love
Happy
Haha
Sad
