ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ইসরায়েলপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।
পাসপোর্ট সমর্পণের আদালতের নির্দেশ অমান্য করার পরপরই তার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা করেননি। এরপর মঙ্গলবার ফেডারেল পুলিশ তার সব ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে।
একাধিক কূটনৈতিক ও পরিবারসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, ফ্লাভিও বলসোনারো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে তার ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে অবস্থান করছেন।
তিনি কীভাবে এবং কোন পথে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে হেরে যান ফ্লাভিও বলসোনারো।
লুলা ৫১.৭৯% ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বলসোনারো পান ৪৮.২১% ভোট। পরাজয়ের পর থেকেই তিনি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করার দাবি জানান এবং ভোটগ্রহণের সময় বৃদ্ধি করাকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ তোলেন।
ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সূত্র: বিবিসি
What do you feel about this post?
Like
Love
Happy
Haha
Sad
